| | | |
সংবাদ শিরোনামঃ
মুুক্তিযোদ্ধার জানাযা ও দাফনে বাধা প্রদানের প্রতিবাদে ভেড়ামারায় মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ তাড়াশে হাম-রুবেলার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে জনগণকে সম্পৃক্ত করে কমিউনিটি সভা অনুষ্ঠিত মিরপুরে মাটি পরীক্ষায় ডিজিটাল সেন্সর ব্যবহারে প্রশিক্ষণ ও ডিভাইস বিতরণ ভেড়ামারায় বিয়ে করতে এসে জরিমানা গুনতে হলো বর কে ভেড়ামারায় আলহেরা মডেল একাডেমী স্কুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও মা সমাবেশ ভেড়ামারার পদ্মায় পানির তোড়ে ভেসে গেলো কৃষক ভেড়ামারায় গনধর্ষন/ ৪ দিন মৃত্যুর সাথে লড়ে হেরে গেলো তরুনী ভেড়ামারা থানা পুলিশের অভিযানে ৪০ পিচ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সহ ২জন আসামি গ্রেফতার। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে ঢাকাস্থ ভেড়ামারা সমিতির নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে বাবা-মা, দাদু আর একমাত্র ভাই সবাইকে হারিয়ে মহিমার চোখে কেবলই অন্ধকার/ আগুনে ছাই হয়ে গেল মহিমার সব স্বপ্ন
বাঙালী জীবনের সবচেয়ে বড় ঐতিহ্য মন্ডিত শিল্প সংস্কৃতি ও ইতিহাস : বাংলা নববর্ষের ইতিকথা

বাঙালী জীবনের সবচেয়ে বড় ঐতিহ্য মন্ডিত শিল্প সংস্কৃতি ও ইতিহাস : বাংলা নববর্ষের ইতিকথা

স্যার আজবাহার :
বেশীর ভাগ ইতিহাসবিদ মোটামোটি একমত যে, বাংলা সন ১৫৫৬ খৃস্টাব্দে সম্রাট জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবরের শাসন আমলেই শুরু হয়েছিল। ভারত বর্ষে মোঘল সম্রাজ্য শুরুর পর থেকে আরবী বছর হিজরী পঞ্জিকা অনুসরন করে তারা কৃষি পণ্যের খাজনা আদায় করে থাকতেন। হিজরী সন চাঁদের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় ফসলি মাসের সঙ্গে তার কোন মিল পাওয়া গেল না। খাজনা নেয়ার আরবী মাস এসে গেল কিন্তু ফসল উঠলো না। তখন কৃষকরা আপত্তি তুলল ফসল না উঠা পর্যন্ত তারা খাজনা দিতে পারবে না। তখন সম্রাট আকবর বাংলায় একটা সন তৈরীর উদ্যগ গ্রহণ করলেন। নবরতেœর জ্যোতির বিজ্ঞানী আমীর ফতে উল্লাহ শিরাজীকে বাংলা সন নির্মাণের আদেশ দিলেন। তিনি আরবী ও ইংরেজী সনের উপর ভিত্তি করে বাংলা সনের নিয়ম তৈরীর কাজ শুরু করে দিলেন। প্রাপ্ত তথ্য মতে, ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ অথবা ১১ মার্চ থেকে বাংলা সন গণনা শুরু হয়। তবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে ১৫৫৬ সালের ৫ নভেম্বর থেকে। বাংলা সন যে দিন উদ্বোধন করা হয় সে দিন এই সনের বয়স ছিল ৯৬৩ বছর। প্রথম দিকে এর নাম ফসলি সন হলেও পরে বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিতি লাভ করে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলা মাসের নাম গুলি বিভিন্ন তারকা রাজির নাম থেকে নেয়া হয়েছে। যেমন, বিশাখা থেকে বৈশাখ, জেষ্ঠা থেকে জৈষ্ঠ্য, আষাঢ়া থেকে আষাঢ়, শ্রাবাণা থেকে শ্রাবণ, ভাদ্র পদ থেকে ভাদ্র, অশি^নি থেকে আশি^ন, কৃত্তিকা থেকে কার্তিক, অগ্রইহণী থেকে অগ্রহায়ণ, পোষ্যা থেকে পৌষ, মঘা থেকে মাঘ, ফল্গনি থেকে ফাল্গুন, চিত্রা থেকে চৈত্র। বারের নাম প্রবর্তন করেন স¤্রাট শাজাহান, যেগুলো গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র থেকে নেয়া হয়েছে। যেমন: গ্রহ থেকে, মঙ্গল, বুধ, বৃহষ্পতি, শুক্র, শনি, নক্ষত্র থেকে রবি, উপগ্রহ থেকে সোম, যার অর্থ, চাঁদ।
প্রথম ৫টি মাস ৩১ দিন এবং পরের ৭টি মাস ৩০ দিনের। এই হিসাবে মোট ৩৬৫ দিন। তবে আদিকালে সকাল থেকে মাস গণনা হত। ২০০৫ সাল থেকে রাত বারোটার পর থেকে মাসের শুরু ধরা হয়। আর আরবী সন ধরা হয় সন্ধ্যায়। পৃথিবীর প্রায় সকল জাতিই তাদের ইতিহাস ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য দিবস পালন করে থাকে। তেমনি বাংলা সংস্কৃতি ধরে রাখার জন্য বাংলা নববর্ষ ভারত উপমহাদেশে ঘটা করে পালনের রীতি বেশ পুরাতন। ১৫৬৫ সালে রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গান নিষেধাজ্ঞা জারির প্রতিবাদে ছায়ানট নামের সংগঠন রমনা বটমূলে এসো হে বৈশাখ এসো এসো গানের মধ্যদিয়ে বর্ষবরণ করে স্বাগত জানানো হয়েছিল। তারপর জাতীয় ভাবে স্বীকৃতি পেলো এই দিবসটি। ১৯৭২ সাল থেকে অদ্যবদি কোটি কোটি বাঙালী অপেক্ষায় থাকে এই দিবসটি পালনের উৎকন্ঠায়।
নোবেল জয়ী অমর্ত্য সেন কোন এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে বলেন, স¤্রাট আকবর ই বাংলা সনের প্রবর্তক। কোন কোন ইতিহাসবিদ বলেন, আকবরের সিংহাসনে আরোহনের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ১৪ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখ নির্ধারণ করা হয়। এক সময় অগ্রাহায়ণ মাসকেই বছরের প্রথম ধরে নবান্ন উৎসব পালন করা হত। তবে পহেলা বৈশাখ শুরু হয়েছিল স¤্রাাট আকবরের আমল থেকেই। তখন পহেলা তারিখেই খাজনা, শুল্ক, মাশূল, যাবতীয় পাওনা পরিশোধ করতে হত। পহেলা বৈশাখে মিস্টান্ন দ্বারা আপ্যায়ন করার রীতি সেই প্রারম্ভিক থেকেই চলে আসছে।
১৯১৭ সালে প্রথম বিশ^ যুদ্ধে ব্রিটিশদের বিজয় কামনা করে পহেলা বৈশাখের গুনকীর্তণ মঙ্গল কামনা করা হয়। তবে বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্য, সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখার জন্য বাংলা নববর্ষ পালনের গুরুত্ব অপরিসীম। এভাবেই কোটি কোটি ভক্ত বৃন্দের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবে পহেলা বৈশাখ।

আপনার সামাজিক মিডিয়ায় এই পোস্ট শেয়ার করুন

Advertisement

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2024